ফ্রিল্যান্সিং কেন করব?ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো 2021

আজকের এই এপিসোডে আপনি ফ্রীল্যান্সিং সম্পর্কে যা কিছু আছে ফ্রিল্যান্সিং কেন করব?ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো 2021 সব জেনে নিতে পারবেন।ফ্রীল্যান্সিং নিয়ে আমাদের কিছু ভুল ধারণা আছে ।আজকের এই আর্টিকেলে আপনার সব কিছু ক্লিয়ার হয়ে যাবে। সবার আগে আমাদের জানা উচিৎ ফ্রীল্যাসিং কি এবং ফ্রীল্যান্সিং কেন করব।

ফ্রীল্যান্সিং কি?

ফ্রীলান্সিং হলো মুক্ত একটি পেশা যেখানে কোনো কাজের চাপ নেই আপনি আপনার সময় মত কাজ করতে পারবেন। ফ্রীল্যান্সিং কি এটা যদি আপনাদের আমি একটা উদাহরণ দিয়ে বুজাই তাহলে আপনাদের ধারণাটা আরো ক্লিয়ার হয়ে যাবে।ধরেন আমেরিকান কোনো একটা কোম্পানি বাংলাদেশকে জামা বানাতে দিলো।বাংলাদেশ কিছু টাকার বিনিময় ওই কোম্পানির কাজটা করে দিবে।

এইখানে বাংলাদেশ হচ্ছে ফ্রীলান্সার এবং আমেরিকান কোম্পানি হলো আউট সোর্চয়ার।এই জামা বানিয়ে নিলো বা মনে করেন একজন একটা ওয়েবসাইট বানিয়ে নিতে চায় অথবা তার ভালো একজন এক্সেলার বা ডিজাইনার দরকার। তাহলে সে কি করবে বাহিরের ভালো কোনো লোক দ্বারা সে এটা বানিয়ে নিবে এটাকে ফ্রীল্যান্সিং বলে।

ফ্রীল্যান্সিং কিভাবে শিখবো 2021

ফ্রীল্যান্সিং শেখার জন্য আপনাকে যেকোনো একটা স্কিল আগে ফোকাস করতে হবে।এজন্য আপনার ভালো লাগার বিষয় খুঁজে বের করতে হবে কোনটা আপনার পছন্দ। মার্কেটপ্লেসে অনেক ধরণের কাজ আছে যেমন কোডিং,ভিডিও এডিটিং,ফটোশপ,ওয়েব ডিজাইন সহ আরোও অনেক ধরণের কাজ।এর যেকোনো একটাতে যদি আপনি পারদর্শী হন তাহলে কাজ করতে পারবেন।

আপনি যখন স্কিল ডেভেলপ করে ফেলবেন তখন যেকোনো মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট খুলে নিবেন সেখানে ভায়াররা আসবে তারা জব পোস্ট করবে আপনি আপনার স্কিল অনুযায়ী কাজ খুঁজে নিবেন।এরপর আপনি ওই কাজের জন্য apply করবেন।ভায়াররা মার্কেটপ্লেসে টাকা দিবে এবং কাজ করে মার্কেটপ্লেস থেকে টাকা নিয়ে নিবেন।

ওয়েব ডিজাইন করতে চাইলে যা করবেন

বর্তমানে ওয়েব ডিজাইন একটি জনপ্রিয় পেশা।এখানে আপনাকে কিছু প্রোগ্রামিং করতে হবে।তবে আপনাকে অ্যাডভান্স কোন কিছু শিখতে হবে না।বেসিক কিছু প্রগ্রাম্মিং জানলেই আপনি ওয়েব ডিজাইন করতে পারবেন।

ওয়েব ডিজাইন শেখার জন্য আপনাকে এইচটিএমএল,সিএসএস এবং বুটস্টাপ ভালো করে শিখে নিতে।ওয়েব ডিজাইন করার জন্য আপনাকে মিনিমাম দৈনিক ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা কাজে লাগাতে হবে।

ফটো এডিটিং করতে চাইলে যা করবেন

ফটো এডিটিং খুবই সহজ একটি কাজ এজন্য আপনাকে বাড়তি কোন কিছু জানা লাগবে না শুধু ফটোশপের কাজগুলো ভাল করে জানলেই হবে।ফটোশপ এডোবি ইলাসট্রেটরের কাজগুলো খূব ভালো করে শিখতে হবে যেমন ব্যাকগ্রাউণ্ড রিমুভ সহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে।প্রথমে এডোবি ইলাসট্রেটর ওপেন করে নিবেন তারপর তারপর ইউটিউব দেখে দেখে সব কাজ শিখে নিবেন।

অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কিভাবে করবেন

ওয়েবসাইট ডিজাইনের পাশাপাশি এখন মানুষ অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের দিকে খুব জুকে যাচ্ছে।মোবাইল এপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলতেছে এবং এটার কেরিয়ার খুবই ভাল।আপনি চাইলে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কোর্স করে ফেলতে পারেন অথবা অ্যান্ড্রয়েড টিউটোরিয়াল দেখে শিখে ফেলতে পারেন।এটা খুবই সহজ একটি কাজ আপনি ৪-৫ মাস সময় দিলে খুব সহজে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করতে পারবেন।

“অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করে আপনি অ্যাডমব থেকে আয় করতে পারবেন।

কিভাবে ফ্রীল্যান্সিং একাউন্ট খুলব।

ফ্রীলান্সিং একাউন্ট খুলা একদমই সোজা একটা বাচ্চাও একাউন্ট খুলে ফেলতে পারবে কিন্তু প্রধান কাজ হচ্ছে আপনাকে স্কিল ডেভেলপ করতে হবে।আপনার যদি স্কিল থাকে তাহলে আপনার কাজ পেতে কোনো অসুবিধা হবে না।দেখেন একাউন্ট কোনো বড় বিষয় না বাংলাদেশ এখন একাউন্ট করার দিক থেকে সব চেয়ে আগানো।

ফ্রীল্যান্সিং এ বাংলাদেশ একাউন্টের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। স্কিল ডেভেলপ করে আপনি আপনার মূল্যবান একাউন্টটি খুলে ফেলবেন।

ফ্রীলান্সিং করার জন্য অনেকগুলো ওয়েবসাইট আছে আপনি যেখানে খুশি সেখানে আবেদন করতে পারবেন।যেমন মার্কেটপ্লেসে কাজ করার ফাইবার,আপওয়ার্ক এবং ফ্রীলাঞ্চার সহ অনেক গুলো সাইট আছে।এখানে একাউন্ট করা খুবই সহজ একটা ব্যাপার।প্রথমে একটা ব্রাউজার ওপেন করে নিবেন তারপর সাইন-ইন অপশনে গিয়ে আপনার সকল ইনফরমেশন দিয়ে দিবেন এবং একাউন্ট হয়ে গেলে একাউন্টে ঢুকে আপনার প্রোফাইল ১০০% করে নিবেন।

আরও জানুন

সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ১০ টি এন্ড্রয়েড অ্যাপ

কিভাবে গুগল অ্যাডসেন্স আবেদন করবেন

ইউটিউব ভিডিও থেকে টাকা ইনকাম কিভাবে করবেন।

অনলাইনে ই-পাসপোর্ট করার নতুন নিয়ম

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম ২০২১

ফ্রীল্যান্সিং কি হালাল

ফ্রীল্যান্সিং অবশ্যই একটি হালাল পেশা যদি সেটা ভালো কোনো কিছুর উদ্দেশ্যে করা হয়।যেমন আপনি যদি ওয়েব ডিজাইন করেন বা কোনো একটি ফটো ইডিটিং করেন তাহলে সেটা একটা হালাল কাজ।আবার যেমন আপনি যদি বাজে ওয়েব সাইটের ভিডিও এডিটিং বা ফটো এডিটিং করেন তাহলে সেটা অবশ্যই হারাম কাজ হবে। ফ্রীল্যান্সিং হল কাজের গুদাম ঘর এখানে কাজের কোন অভাব নেই।তবে ফ্রীল্যান্সিং শুরু করার আগে আপনাকে ভালো কাজ গুলো বিবেচনা করে করতে হবে। ফ্রীপ্যান্সিং একটি মুক্ত পেশা এখানে একজন কোনো রকম চাপ ছাড়াই কাজ করতে পারে।

হালাল কাজ গুলো কি কি

১।ওয়েব ডিজাইন

২।কোড টেস্টিং

৩।সার্ভার ম্যানেজমেন্ট

৪।প্রব্লেম সল্ভিং

৫।ফটো এডিটিং

৬।ভিডিও এডিটিং

৭।আপ্পস মেকিং

এগুলো ছারাও অনেক ধরনের কাজ আছে যা হালাল কাজ

ফ্রীল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায়।

এতক্ষণ আমরা জানলাম ফ্রিল্যান্সিং কেন করব?ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখব এবারে জানব ফ্রীল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায় তার কোনো ধরা বাধা হিসেব নেই।এটা নির্ভর করে আপনি কত কাজ করছেন এবং কি রকম কাজ করেন। যদি আপনি কাজ ভালো করে করেন তাহলে বেশি কাজ পাবেন তাহলে আয় অনেক বেশি হবে।ফ্রীল্যান্সিং করে অনেকে লাখ লাখ টাকা আয় করে আবার কেউ কোন টাকা পয়সা আয় করতে পারে না।সুতারং আয় বেশি করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই স্কিলের উপর মনোযোগ দিতে হবে।

আপওয়ার্কে যারা কাজ করে তারা মোটামুটি ২০০০০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা প্রজন্ত আয় করে থাকে।নতুন যারা আসে তারা ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার আয় করে।একবার কাজ পেয়ে গেলে তখন আয় নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।তখন যত আয় তত টাকা।

আমার এক পরিচিত বড় ভাই হাবিবুর রহমান উনি মাসে প্রায় ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করে।গত বছর তার আয়ের পরিমান ছিল ৮০০০০ ডলার।

ফ্রীল্যান্সিং এর টাকা কিভাবে তুলতে হয়।

ফ্রীলান্সিংয়ের টাকা তোলা খুবই সহজ এটা নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না।ফ্রীলান্সিং এর টাকা মুলত মাস্টার কার্ড অথবা ভিসা কার্ড এ নিতে হয়।আপনি সরাসরি ভিসা কার্ড এ টাকা নিতে পারবেন না।এজন্য আপনাকে প্রথমে একটি ব্যাংক একাউন্ট করতে হবে এবং এটা থেকে একটি মাস্টার কার্ড করতে হবে।তাহলেই আপনার টাকা প্রথমে মাস্টার কার্ড পরে সেখান থেকে ব্যাংকে নিয়ে নিতে পারবেন।

ফ্রীল্যান্সিং উপকারিতা

ফ্রীল্যান্সিং হলো একটা বেকার মানুষের কর্মসংস্থান এবং নিরিবিলি পরিবেশে কাজ করার সুযোগ।ফ্রীল্যান্সিং উপকারিতা দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং এর জনপ্রিয়তা ও মানুষের কাছে আকাশচুম্বী।অনেকেই এখন তাদের চাকরি ছেরে দিয়ে ফ্রিলান্সিং পেশায় যুক্ত হচ্ছে।বাংলাদেশে বিপুল পরিমান রেমিটেন্স এখন এই ফ্রীলান্সিং পেশা থেকে আসছে একটা সময় এটা বিপুল সম্ভবনাময় অধ্যায় হবে বলে আশা করা যায়।

বর্তমানে গভারমেন্ট জব হল মানুষের কাছে সোনার হরিন।মানুষ এটার প্রতি হন্যে হয়ে ঘুরে কোথায়ও চাকরি পায় না।অবশেসে ক্লান্তি মনে দিনের পর দিন পার করে দেয়।সুতরাং গভারমেন্ট জবের প্রতি সময় না দিয়ে আপনাকে অবশ্যই ফ্রীলান্সিং পেশায় মনোনিবেশ করা উচিত।

আরও জানুনঃ

মেসেঞ্জার রুম ব্যাবহার করার নিয়ম-টেকনো এক্সট্রা

সি প্রোগ্রামিং এর কাজ কী?সি এর ইতিহাস ও বৈশিষ্ট-টেকনো এক্সট্রা

Quora কি?Quora ব্যাবহারে সুবিধা কি কি?-টেকনো এক্সট্রা

গুগল মিট বনাম জুম কোন অ্যাপটি সেরা?

জানুন গুগলের সেরা ৭ টি প্রোডাক্ট কি কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button